নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি বিরোধীদের

সংবাদদাতা: সৈকত দাস, হুগলি
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় হুগলির উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি মনোনীত প্রার্থী দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর এক অভিনব কিন্তু বিতর্কিত প্রচার কৌশল ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নির্বাচনী প্রচারের মাঝে NSG (ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড) কমান্ডোর পোশাক পরে জনসংযোগে নামার ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একাধিক এলাকায় দীপাঞ্জন চক্রবর্তীকে কালো রঙের কমান্ডো পোশাক, চোখে সানগ্লাস এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অনুরূপ সাজে প্রচার করতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলা, পথসভা এবং জনসংযোগ—সব ক্ষেত্রেই তিনি এই পোশাকেই উপস্থিত ছিলেন। তার এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে নজর কাড়ে স্থানীয়দের, এবং বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
তবে এই অভিনব প্রচার কৌশলই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। বিরোধী দলগুলির একাংশের অভিযোগ, এই ধরনের পোশাক ব্যবহার করে ভোটারদের মধ্যে ভুল বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, NSG-এর মতো একটি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ইউনিফর্ম সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, এবং সেই পোশাক ব্যবহার করে প্রচার চালানো নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আদর্শ আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হতে পারে।
বিরোধীদের বক্তব্য, “নিরাপত্তা বাহিনীর পোশাক পরে প্রচার মানে ভোটারদের প্রভাবিত করার এক ধরনের কৌশল। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারেন এবং মনে করতে পারেন যে কোনো সরকারি বা আধা-সরকারি সমর্থন রয়েছে। এটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী।”
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের একাংশের দাবি, এটি শুধুমাত্র একটি প্রতীকী উপস্থাপনা, যার মাধ্যমে তারা দেশের নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী মনোভাব এবং শক্তিশালী প্রশাসনের বার্তা দিতে চেয়েছেন। তাদের বক্তব্য, এতে কোনোভাবেই নির্বাচন বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন ওঠে না।
দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও জানানো হয়েছে, “এটি সম্পূর্ণ সৃজনশীল প্রচারের অংশ। সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো বেআইনি বা বিভ্রান্তিকর উদ্দেশ্য নেই।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ব্যতিক্রমী প্রচার কৌশল যেমন দ্রুত জনমনে প্রভাব ফেলতে পারে, তেমনই তা উল্টে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যখন বিষয়টি নির্বাচন বিধির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে, তখন তা আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল এমন কোনো কার্যকলাপ করতে পারেন না, যা ভোটারদের বিভ্রান্ত করে বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এই প্রেক্ষিতে NSG কমান্ডোর পোশাক ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে এবং লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
সব মিলিয়ে, উত্তরপাড়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে। ভোটের মুখে এই বিতর্ক আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয় এবং নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।








