ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে সম্মান জানিয়ে দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য সংরক্ষণে ঐতিহাসিক উদ্যোগ রাজ্য সরকারের

খবরের সন্ধানে, সৈকত দাস,নিউটাউন: বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক দুর্গাপুজোকে আরও এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিউটাউনে গড়ে উঠতে চলেছে ‘দুর্গা অঙ্গন’। ইকো পার্ক সংলগ্ন নিউটাউন এলাকায় এই বৃহৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইউনেস্কো কর্তৃক বাংলার দুর্গাপুজোকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর, সেই আন্তর্জাতিক সম্মানকে মর্যাদা জানাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“আমি সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করি এবং সব ধর্মের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করি। কারণ আমি বিশ্বাস করি— ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। দুর্গাপুজো শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাঙালির জীবনধারা, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার প্রতিফলন।”

প্রকল্পের পরিসর ও ব্যয়
প্রায় ২৬১ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা ‘দুর্গা অঙ্গন’ তৈরি হচ্ছে নিউটাউনের ইকো পার্কের নিকটে ১৭.২৮ একর জমির ওপর। এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে এটি রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মিউজিয়াম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ
এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হবে একটি অত্যাধুনিক মিউজিয়াম। সেখানে দুর্গাপুজোর ইতিহাস, শিল্পভাবনা, মৃৎশিল্প, প্রতিমা নির্মাণের কৌশল, পৌরাণিক কাহিনি এবং বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজোর প্রভাব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলার এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারের লক্ষ্যেই এই মিউজিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে।

ধর্মীয় ও স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
‘দুর্গা অঙ্গন’-এ থাকবে—
- ১০৮টি দেবদেবীর মূর্তি
- ৬৪টি সিংহ মূর্তি
- লক্ষ্মী ও সরস্বতীর জন্য পৃথক মণ্ডপ
- আলাদা প্রসাদ তৈরির ঘর
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিশেষ মঞ্চ ও হল।
এই অঙ্গন বছরের ৩৬৫ দিন খোলা থাকবে, যেখানে সারা বছরই পুজো দেওয়া যাবে—যা বাংলার ধর্মীয় পরম্পরায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
কর্মসংস্থান ও আর্থিক সম্ভাবনা
মন্দির চত্বরে দোকানপাট, হস্তশিল্প বিপণি ও পরিষেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নিউটাউনের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রীতির বার্তা
‘দুর্গা অঙ্গন’ কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি বাংলার সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠবে—এই বার্তাই তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মিলনস্থল হিসেবে এই অঙ্গন আগামী দিনে বিশেষ ভূমিকা নেবে বলেই মত প্রশাসনের।








