সৈকত দাস, হুগলি: আগামী ১৬ জুলাই শুরু হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা উৎসব। তার আগেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রথযাত্রার আয়োজনে বড়সড় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলো। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার রথযাত্রা কমিটিগুলিকে নিয়ে নবান্ন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে একটি সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের রথযাত্রা কমিটিগুলিকে শুভেচ্ছা জানান এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে রথযাত্রা পরিচালনার জন্য আহ্বান জানান।
এই ভার্চুয়াল বৈঠকে কলকাতা ও হাওড়া ছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন জেলার রথযাত্রা কমিটির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। হুগলি জেলার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিল তিনটি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটি—শ্রীরামপুরের মাহেশ রথযাত্রা কমিটি, বলাগড়ের গুপ্তিপাড়া রথযাত্রা কমিটি এবং চন্দননগর রথ পরিচালন সমিতি।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই তিনটি কমিটিকে রথযাত্রা উপলক্ষে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এদিন হুগলি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলাশাসক এবং চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলির হাতে ড্যামি চেক তুলে দেন। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে রথযাত্রাকে ঘিরে নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়।

হুগলির জেলাশাসক বলেন, জেলার প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে লক্ষাধিক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। তাই প্রশাসনের তরফে সমস্ত রকম সহযোগিতা করা হবে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়। তিনি রথ পরিচালনা কমিটিগুলিকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে উৎসব পরিচালনার আহ্বান জানান।
এই অনুদান পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মাহেশ রথযাত্রা কমিটির অন্যতম কর্তা পীয়াল অধিকারী। তিনি বলেন, “এই প্রথম কোনো সরকার সনাতনী হিন্দুদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রার জন্য এত বড় আর্থিক অনুদান প্রদান করল। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি যে আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”
উল্লেখ্য, শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা ভারতের অন্যতম প্রাচীন রথযাত্রা উৎসব হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এবারও উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশাসন এবং রথযাত্রা কমিটিগুলি ইতিমধ্যেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি শুরু করেছে, যাতে ঐতিহ্য, ভক্তি ও উৎসবের আবহে মাহেশের রথযাত্রা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।














