কলকাতাজেলাদেশবাঙালির পুজোভক্তিমূলকরাজ্যশিক্ষাসংস্কৃতিসাহিত্যের পাতা

যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিশ্বে শান্তির বার্তা, বিশ্বজুড়ে ‘পরা-বিদ্যাপীঠ’ গড়তে উদ্যোগী গৌড়ীয় মিশন

মানবিক মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রসারে আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা, চার দেশে সফরে যাচ্ছেন গৌড়ীয় মিশনের আচার্য্য

সৈকত দাস, কলকাতা: বর্তমান বিশ্ব এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। একদিকে যুদ্ধ, সন্ত্রাস, হিংসা ও সামাজিক অস্থিরতা, অন্যদিকে মানবিক মূল্যবোধের ক্রমাবক্ষয়—এই পরিস্থিতিতে শান্তি, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নিল গৌড়ীয় মিশন।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে গৌড়ীয় মিশনের আচার্য্য ও সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী গোস্বামী মহারাজ আগামী ১৪ মে কলকাতা থেকে চারটি দেশে সফরে রওনা দেবেন বলে জানা গিয়েছে।

কলকাতার বাগবাজার গৌড়ীয় মিশনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মহারাজ জানান, বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে যে যুদ্ধ ও অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে শ্রীচৈতন্যদেবের শিক্ষা ও আদর্শ। তাঁর কথায়,

“শুধুমাত্র প্রথাগত শিক্ষায় নয়, মানুষের নৈতিক চেতনা, আদর্শ চরিত্র গঠন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সেই লক্ষ্যেই ‘পরা-বিদ্যাপীঠ’-এর মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ নির্ভর শিক্ষার প্রসার ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দেশের স্থানীয় ভাষায় এই শিক্ষার পাঠক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মধ্যেও শ্রীচৈতন্যের মানবতাবাদী আদর্শ সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়। শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বশান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

গৌড়ীয় মিশনের দাবি, এই শিক্ষাপদ্ধতিতে শুধুমাত্র সাধারণ পাঠ্যক্রম নয়, পাশাপাশি আধ্যাত্মিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, সংস্কৃত ভাষা, ভারতীয় দর্শন, চরিত্র গঠনমূলক শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিকতা, সহনশীলতা ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাই এই শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আদর্শ ও বৈষ্ণব দর্শনের প্রসারে গৌড়ীয় মিশনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য্য শ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী প্রভুপাদ ১৯৩৫ সালে ‘পরা-বিদ্যাপীঠ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সূচনা করেন। পরবর্তীকালে ১৯৬৬ সালে ভারত সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

এরপর ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘গৌড়ীয় মিশন পরাবিদ্যাপীঠ রিসার্চ ইনস্টিটিউট’। এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল গৌড়ীয় বৈষ্ণব সংস্কৃতি, ভারতীয় দর্শন এবং মানবতাবাদী চিন্তাধারার বিস্তার ঘটানো। এখানে সংস্কৃত ভাষা ও দর্শন শিক্ষার পাশাপাশি ভারতীয় দর্শনের ওপর উচ্চতর গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি গৌড়ীয় নৃত্য, মৃদঙ্গবাদন, কীর্তন শিক্ষা-সহ একাধিক সাংস্কৃতিক পাঠক্রমও চালু রয়েছে।

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সার্বজনীন প্রেম, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবকল্যাণের আদর্শকে সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘পরা-বিদ্যাপীঠ’ (স্কুল) প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে গৌড়ীয় মিশন। ইতিমধ্যেই কলকাতার বাগবাজার গৌড়ীয় মিশন, নবদ্বীপ সহ দেশের একাধিক গৌড়ীয় মঠে এই শিক্ষা প্রকল্প চালু রয়েছে। এবার সেই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্তরে বিস্তৃত করতে লন্ডন, আমেরিকা, জার্মানী, অস্ট্রীয়া-সহ বিভিন্ন দেশে গৌড়ীয় মিশনের শাখা কেন্দ্রগুলিতে ‘পরা-বিদ্যাপীঠ’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব যখন ক্রমশ সংঘাত ও বিভেদের পথে এগোচ্ছে, ঠিক সেই সময় মানবিক শিক্ষা, আধ্যাত্মিক চেতনা এবং নৈতিক মূল্যবোধকে ভিত্তি করে বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে গৌড়ীয় মিশনের এই উদ্যোগ নতুন দিশা দেখাতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Khabarer Sandhane is a news hub which provides you with comprehensive up-to-date Bengali news coverage from all over West Bengal and India. Get the latest Bengali top stories, Bengali Breaking Stories, Bengali live news ,current affairs news in Bengali,…

Related Posts

1 of 23

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *