কলকাতাদেশপ্রসাশনিক খবরব্যবসা ও বাণিজ্যরাজনৈতিকরাজ্য

ঢাকুরিয়া স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযানের পর অনিশ্চয়তায় শতাধিক হকার

ভাঙা দোকান আঁকড়ে বেঁচে থাকা মাল বিক্রির চেষ্টা, পুজোর আগে জীবিকা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত মঙ্গলবার রাতে যখন কলকাতার একাংশ আর্জেন্টিনার জয় উদযাপনে মেতে উঠেছিল, ঠিক সেই সময় ঢাকুরিয়া স্টেশন চত্বরে চলছিল উচ্ছেদ অভিযান। রাতারাতি ভেঙে ফেলা হয় স্টেশন সংলগ্ন একাধিক হকারের দোকান। বর্তমানে গোটা স্টেশন চত্বর কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভাঙা দোকানের অবশিষ্টাংশের মধ্যে বসে বেঁচে থাকা সামান্য মালপত্র বিক্রির চেষ্টা করছেন হকাররা। কেউ আবার রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তাঁদের শেষ সম্বলটুকু।

হকারদের অভিযোগ, দোকান থেকে সরিয়ে আলাদা করে রাখা মালপত্রও রেহাই পায়নি। বহু জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এমনকি ক্যাশবাক্সে থাকা নগদ টাকাও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু মালপত্র কোম্পানির কাছে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে টাকা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। পরিবর্তে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে একটি স্লিপ।

ঢাকুরিয়া স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাছে ভাঙা দোকানের সামনে বসে ছিলেন হকার বাপি মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী। বেঁচে যাওয়া কিছু মালপত্র ব্যাগে ভরতে ভরতে বাপি বলেন, “সকালে একবার ঘোষণা করে চলে যায়। আমরা মালপত্র সরিয়ে এক জায়গায় রেখেছিলাম। কিন্তু সেগুলিও নষ্ট হয়ে গিয়েছে।”

দীর্ঘদিন ধরে এই স্টেশন চত্বরে বিস্কুট, বাদাম, পানীয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ছোট ছোট দোকান চালিয়ে সংসার চালিয়ে আসছেন বহু পরিবার। স্থানীয় স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের কাছেও এই দোকানগুলি ছিল অত্যন্ত পরিচিত। বাপি মণ্ডলের কথায়, “যেটুকু মালপত্র বাঁচাতে পেরেছি, সেগুলো ফেরত দিতে যাচ্ছি। কিন্তু এখনই টাকা দেওয়া হবে না বলে হাতে শুধু স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

প্রায় পাঁচ থেকে ছয় দশক ধরে বহু হকার এই এলাকায় ব্যবসা করে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে হকার কার্ড দেওয়া হয়েছে। এক প্রবীণ হকারের কথায়, “বাম আমলে সিআইটিইউ-এর লাল কার্ড পেয়েছিলাম। পরে তৃণমূলের আমলেও কার্ড দেওয়া হয়। কিন্তু আজ আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।”

হকারদের আরও অভিযোগ, বর্তমানে স্টেশন চত্বরে কোনও রকম ব্যবসা করতে গেলেই ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হচ্ছে। ফলে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তাঁরা। ক্যানিংয়ের বাসিন্দা বাপি মণ্ডলের মা অসুস্থ হলেও তিনি বাড়ি ফিরতে চাইছেন না। রাতভর স্টেশনেই বসে রয়েছেন নিজেদের সামান্য সম্বল আগলে।

সামনেই দুর্গাপুজো। এই সময়ে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালানো নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটছে বহু পরিবারের। সরকারের কাছে তাঁদের আবেদন, অন্তত পুজো পর্যন্ত ব্যবসা চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক, যাতে বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করার জন্য কিছুটা সময় পাওয়া যায়।

ঢাকুরিয়া স্টেশনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আজ একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—বহু বছরের এই জীবিকা হারিয়ে আগামী দিনে কোথায় দাঁড়াবেন এই হকাররা ?

Khabarer Sandhane is a news hub which provides you with comprehensive up-to-date Bengali news coverage from all over West Bengal and India. Get the latest Bengali top stories, Bengali Breaking Stories, Bengali live news ,current affairs news in Bengali,…

Related Posts

1 of 24

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *