পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করলেন; নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন তীর্থযাত্রা সুনিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির নির্দেশ

কলকাতা, ১ আগস্ট, ২০২৬:
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই শ্রীমতী গীতিকা পান্ডে আজ (০১.০৮.২০২৬) পূর্ব রেল সদরে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা করেন। শ্রাবণী মেলা–২০২৬ চলাকালীন পুণ্যার্থীদের নিরাপদ, মসৃণ ও সুবিধাজনক যাতায়াত সুনিশ্চিত করতে যে ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলি খতিয়ে দেখেন তিনি।
বৈঠকে জেনারেল ম্যানেজার সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি, হোল্ডিং এলাকার নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি, মেলা স্পেশাল ট্রেনের সময়মত চলাচল, উন্নত যাত্রী সুবিধা, কার্যকর ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বোচ্চ মানের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভক্তদের একটি নিরাপদ, সুবিধাজনক এবং ঝামেলাহীন তীর্থযাত্রার অভিজ্ঞতা দিতে প্রতিটি সম্ভাব্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
শ্রাবণী মেলা ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বার্ষিক ধর্মীয় সমাবেশ। এখানে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম পবিত্র স্থান বাবা বৈদ্যনাথ ধামে তীর্থযাত্রা করেন এবং পরবর্তীতে বাবা বাসুকিনাথ ধাম দর্শন করেন।
কাঁওয়ারিয়া এবং অন্যান্য পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে পূর্ব রেল জসিডি, দেওঘর, বৈদ্যনাথ ধাম এবং বাসুকিনাথ স্টেশনগুলিতে বিস্তৃত বন্দোবস্ত করেছে। এই উদ্যোগগুলির মধ্যে রয়েছে ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, টিকিট ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, উন্নত যাত্রী সুবিধা, প্রযুক্তিভিত্তিক পর্যবেক্ষণ, সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উন্নত কার্যক্রম প্রস্তুতি।
পূর্ব রেল কর্তৃক গৃহীত প্রধান ব্যবস্থাসমূহ:
বর্ধিত ধারণক্ষমতা:
জসিডি স্টেশনের হোল্ডিং এলাকা প্রায় ৮৯% বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে একবারে ১২,৫০০ জন যাত্রী থাকতে পারবেন। এর ফলে প্ল্যাটফর্মের ভিড় কমবে এবং ট্রেনে ওঠা-নামা সহজ হবে।
হোল্ডিং এলাকায় ডেডিকেটেড অ্যাম্বুলেন্স, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র, এআই (AI) চালিত অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা, ২৪ ঘণ্টার ওয়ার রুম এবং অতিরিক্ত বায়ো-টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সুদৃঢ় টিকিট ব্যবস্থা:
দ্রুত ও ঝামেলাহীন টিকিটের জন্য পূর্ব রেল প্রস্তুত রেখেছে:
২০টি ইউটিএস (UTS) টিকিট কাউন্টার
৬টি অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন (ATVMs)
৩০টি মোবাইল ইউটিএস (UTS) ডিভাইস
বিশেষ ট্রেন পরিষেবা:
অতিরিক্ত যাত্রী সামলাতে মোট ২১ জোড়া মেলা স্পেশাল ট্রেন (মোট ১,০১৭টি ট্রিপ) চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই ট্রেনগুলি গোরক্ষপুর, রক্সৌল, জয়নগর, দানাপুর, পাটনা, বারাণসী, জামালপুর, গোড্ডা এবং সাহেবগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলির সাথে সংযোগ রক্ষা করবে।
সাধারণ ট্রেনের কোচ বৃদ্ধি:
যাত্রী চাহিদা মেটাতে মিথিলা এক্সপ্রেস, গঙ্গাসাগর এক্সপ্রেস, বালিয়া এক্সপ্রেস এবং মোকামা এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হয়েছে।
জসিডি স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজের সময় বাড়ানো হয়েছে যাতে যাত্রীরা নিরাপদে ওঠা-নামা করতে পারেন।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি:
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মধুপুর, জসিডি এবং আসানসোলে তিনটি অতিরিক্ত ট্রেনের রেক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য:
মেলা চলাকালীন উচ্চমানের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রবীণ আধিকারিকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
পূর্ব রেল সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা, সমন্বিত প্রয়াস এবং ধারাবাহিক নজরদারির মাধ্যমে শ্রাবণী মেলা–২০২৬ চলাকালীন নিরাপদ, দক্ষ এবং যাত্রীবান্ধব পরিষেবা প্রদান করতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই উপলক্ষে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি বলেছেন:
“শ্রাবণী মেলা–২০২৬ চলাকালীন প্রতিটি ভক্ত যাতে একটি নিরাপদ, আরামদায়ক এবং ঝামেলামুক্ত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পান, তা সুনিশ্চিত করতে পূর্ব রেল সূক্ষ্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পান্ডের নির্দেশনায় সমস্ত বিভাগ ২৪ ঘণ্টা নজরদারি, বর্ধিত যাত্রী সুবিধা, সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মেলা স্পেশাল ট্রেনগুলির সময়মত চালনা নিশ্চিত করতে একসাথে কাজ করছে। আমরা সকল পুণ্যার্থীর কাছে বৈধ টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করার, রেলের নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলার, রেলওয়ে ও আরপিএফ কর্মীদের সহযোগিতা করার এবং প্রদত্ত যাত্রী সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করার আবেদন জানাচ্ছি। আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা হলো প্রতিটি পুণ্যার্থীর যাত্রাকে নিরাপদ, মসৃণ এবং স্মরণীয় করে তোলা।”