
ক্রীড়া ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল স্পেন। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিল ‘লা রোহা’। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরা এই ম্যাচে একমাত্র গোলই নির্ধারণ করে দেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ভাগ্য।
ফাইনাল ম্যাচে স্পেন শুরু থেকেই বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। মাঝমাঠে নিখুঁত পাসিং, দ্রুত গতির আক্রমণ এবং দুর্দান্ত রক্ষণভাগের কারণে আর্জেন্টিনা একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও সফল হতে পারেনি। অন্যদিকে স্পেন সুযোগের সদ্ব্যবহার করে নির্ধারক গোলটি করে এবং সেই গোলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই বেশ কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও গোলের দেখা পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের আক্রমণের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। এক দৃষ্টিনন্দন দলগত মুভ থেকে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। সেই গোলের পর আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও স্পেনের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের অসাধারণ নৈপুণ্যের সামনে তাদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন স্পেনের ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং হাজার হাজার সমর্থক। মাঠজুড়ে শুরু হয় বিজয় উৎসব। স্পেনের খেলোয়াড়রা জাতীয় পতাকা হাতে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন এবং বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার ঐতিহাসিক মুহূর্তে আবেগে ভেসে যান সমর্থকেরাও।
এই বিশ্বকাপে স্পেন শুরু থেকেই দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিল। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নক-আউটের প্রতিটি ম্যাচে দলটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, দ্রুত পাসিং এবং অসাধারণ টিমওয়ার্কের পরিচয় দেয়। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল পেরিয়ে ফাইনালেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সিংহাসনে বসে স্পেন।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনালে পৌঁছেছিল। তবে ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ এবং কার্যকর আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় তাদের। গোলের জন্য একাধিক সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে না পারায় স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার।












